বাংলাদেশ থেকে ইতালি বিমান ভাড়া কত ও বুকিং গাইড

ভূমিকাঃইতালি, ইউরোপের একটা সুন্দর দেশ যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর বিভিন্ন সাদের খাবারে মিলে মিসে মুগ্ধ হয়ে যান। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই কাজ, পড়াশুনার এবং ঘুরার জন্য ইতালিতে অনেকে যাই। ইতালির রাজধানীর রোমে পৌঁছে কলসিয়াম দেখা, ভেনিসের ক্যানালে ঘুরে বেড়ানো বা ফ্লরেন্সের আর্ট গেলারি ঘুরে আসা, সবকিছুর স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের তরুনরা। দেশটি ৩০১৩৩৮ বর্গকিলোমিটার জুরে বিস্তৃত, দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ মিলিয়ন। 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি ভ্রমন সুধু একটি জাত্রা নয়, বরং এটি জীবনযাত্রার মনয়ন্নন, সিক্ষাগত সুযোগ এবং ভ্রমনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জনের অংশ। এখানে কাজের সুজুগ অনেক, বিশেষ করে টেক্সটাইল , কনস্ট্রাকশন, এবং আইটি সেক্টর। পরড়াশুনার জন্য ইউনিভার্সিটি গুলাও অনেক বিখ্যাত। বাংলাদেশ থকে সরাসরি ফ্লায়েট থকার কারনে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে।  



বাংলাদেশ থেকে ইতালি বিমান ভারা কত

ইতালিয়ানরা খুবি উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত। জীবন যাপনের মানের দিক থেকে অবস্থান সেরা দশের মদ্ধে রয়েছে। ইতালিয়ানরা তাদের দয়নন্দিন জিবনের ছোট খাটো কাজ যেমন ড্রাইভিং, ক্লিনার, ও রাধুনি সহ অসংখ্য কাজে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাই ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখে।

বর্তমানে খুব কম সংখ্যক বিমান বাংলাদেশ থকে ইতালি যাওয়া আসা করে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালি রুটে বিমান ভারা আনুমানিক সর্বনিম্ন ৬২,০০০ টাকা থেকে সর্বচ্চ প্রায় ৪,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে নন স্টপ ফ্লাইটে সময় কম হওার কারনে নন স্টপ ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা বেসশী হয়।

ইতালির মুদ্রা ইউরো, যা বাংলাদেশী টাকার চেয়ে অনেক দামী। তাই টিকেট কিনার সময় ডলার রেট চেক করে নেওয়া উচিৎ। বর্তমানে ১ ডলার সমান বাংলা টাকাই ১১৮ টাকার সমান। এই দাম গুলা পরিবর্তনশীল, তাই অনলিন সাইটে চেক করে নেওয়া ভাল। এতে ভারা অনেক সময় কম টাকাই পাওয়া যাই। 


ঢাকা থেকে ইতালি ফ্লাইট সময় রুট

ঢাকার হযরত সাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতালির রোম বা মিলান মাল্পেন্সা বিমানবন্দরে যেতে সাধারণত ১০থকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। সরাসরি ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। যদি দুবাই বা দোহাই ট্রানজিট দেই তাহলে ১২ ঘণ্টা থকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। 

বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন অনেক ফ্লাইট চলাচল করে। সকাল ৮টা থকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিমান চলাচল করে। যদি আপনি রোম যান, তাহলে দূরত্ব প্রায় ৭০০০ কিলোমিটার। আপনি যদি ফ্লাইট ট্রেকার অ্যাপ ব্যাবহার করেন তাহলে রিয়েল টাইম আপডেট পাওয়া যাবে। ট্রানজিট দিলে লাভ হয় সেই দেশের আসে পাসে ঘুরা যাই যেমন দুবাই শপিং মল। তবে সরাসরি ফ্লাইট সময় বাঁচাই। আমার এই রাইটিং থেকে বাংলাদেশের ইতালি জ্বর ভাড়া এবং বুকিং গাইড সম্পর্কিত সব ইনফরমেশন পেয়ে যাবেন।


বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত টাকা খরছ হয়

বর্তমানে ইতালিতে বৈধ ভাবে যাওয়া সম্ভব। যার কারনে বাংলাদেশের অনেকে মানুষ ইতালি যাওয়ার ইছা প্রকাশ করে। ইতালি যাওয়ার জন্য অনেক ভিসা এভিলেবল রয়েছে। এ সকল ভিসার সাহায্যে বৈধ ভাবে খুব সহজে ইতালি যাওয়া সম্ভব। কিন্তু ইতালি যাওয়ার জন্য অনেক টাকা খরছ হয়ে থাকে। ভিসার ক্যাটাগরি ও কাজের ধরনের উপর ভিসার খরছ নিরভর করে।

ইতালির ওয়ার্ক পারমিট ভিসা তৈরি করতে সুধু ভিসার খরছ হয়ে যাই ৮ লাখ থকে ১০ লাখ টাকা প্রায়। এই ছাড়া বিমান ভারা, মেডিকেল টেস্ট, আনুষাঙ্গিক খরছ সহ সর্বনিম্ন প্রায় ১২লাখ টাকা থকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরছ হয়ে থাকে। 

বিমানের ভারা নিরধারণে প্রধান ফ্যাক্টরসমুহু

বাংলাদেশ থেকে ইতালির বিমান ভারা মাঝে মাঝে কম বেশী হয় । ভিন্ন সময়, বুকিং কৌশল, এইরলাইন্সের এবং সিট ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে বিমান ভারা কম বেশী হয়ে থাকে।

  • ভ্রমনের সময়কালঃ গ্রীষ্মকাল (জুন_অগাস্ট) ও শিতকালিন ছুটিতে ( ডিসেম্বর-জানিুয়ারি) এই সময়কালে ভারা অনেক বেশী হয়।
  • বুকিং এর সময়ঃ নিরধারিত ডেটের আগে টিকেট বুকিং করলে অনেক কম খরছ হয়।
  • এয়ারলাইন্স নির্বাচনঃ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স আলাদা আলাদা সার্ভিস ও ভারা নিরধারন করে থাকে।
  • সিট ক্যাটাগরিঃ ইকনমি ক্লাস, বিজনেস ক্লাস, ফাস্ট ক্লাস ভারার পার্থক্য অনেক কম বেশী হয়ে থাকে। 


বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত সময় লাগে।

বর্তমান এই আধুনিক জুগে সব কিছু সম্ভব। আর এই ঠিক আধুনিক যুগে আবিষ্কৃত সকল যানবাহনের মদ্ধে সব থকে দ্রুতগামী যানবাহন হল বিমান। বিমানের সাহায্যে ইতালিতে খুব সহজে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যেতে ননস্টপ বা বিরতিহিন ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে প্রায় ১০  ঘণ্টা সময় লাগে।

আবার এই একই জায়গায় মালেয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমান ব্যাবহার করে যেতে ২২ ঘণ্টা ২১ ঘণ্টা সময় লাগে। কারন মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমান নন স্টপ মানে বিরতি হিন ফ্লাট না। এই ফ্লাইটটি দুই জায়গায় কুয়ালালামপুর ও দোঁহা বিমান বন্দরে বিরতি নিয়ে তারপর ইতালি পৌঁছায়। যার কারনে ইতালি পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে।  

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিমানের ভারা ও সুবিধা

    ইকোনমি ক্লাস 

সবচচেয়ে জনপ্রিয় ও বাজেট ক্যাটাগরি ।

  • ভারা সীমাঃ ৬০,০০০ টাকা থেকে ১,২০,০০০টাকা (এক্মুখী টিকেট)
  • কাদের জন্য উপযুক্তঃ শিক্ষার্থী, সাধারন পর্যটক, বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য।
  • সুবিধাঃ বেসিক আসন, সিমিত লেগ স্পেস, সাধারণ খাবার, এবং ইন ফ্লাইট বিনোদন।

    বিজনেস ক্লাস

সর্বোচ্চ বিলাসিতা ও আরামের প্রতিক।

  • ভারা সীমাঃ ২,০০,০০০ টাকা থেকে ৪,০০,০০০টাকা পর্যন্ত হয়।
  • কাদের জন্য উপযুক্তঃ শিল্পপতি, দীর্ঘ ভ্রমণকারী বা আরামপ্রিয় যাত্রী।
  • সুবিধাঃ প্রশস্ত আসন, বেসি লেগ স্পেস, উচ্চমানের খাবার, ফ্লাটবেড সিট, এবং প্রাইয়োরিটি চেক-ইন।

    ফাস্ট ক্লাস

সরবচ্চ বিলাসিতা ও আরামের প্রতিক।

  • ভারা সীমাঃ ৪,৫০,০০০ টাকা থেকে ৮,০০,০০০ টাকা।
  • কাদের জন্য উপযুক্তঃ উচ্চবিত্ত যাত্রী বা ভি আই পি ভ্রমণকারীদের জন্য।
  • সুবিধাঃ প্রাইভেট কেবিন, বিলাশবহুল আসন।

শেষ কথা

বাংলাদেশ থেকে ইতালি ভ্রমন করার আগে বিমান ভাড়া, এয়ার লাইন্সের সেবা এবং সঠিক সময় নির্বাচন সম্পর্কে জানা অপরিহার্য। যদি বাজেট পর্যটক হন তবে ইকোনমি ক্লাস যথেষ্ট, তবে ব্যবসায়িক ভ্রমণ বা আর আন্তর্জাতিকদের জন্য বিজনেস ও ফাস্ট ক্লাস আরো উপযুক্ত।


সঠিক পরিকল্পনা আগামী বুকিং এবং সচেতন ভ্রমণ কৌশল আপনার ইতালি সম্পর্কে শুধু সাশ্রয়ী নয় বরং স্মরণীয় করে তুলবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলা ওয়ে ব্লগের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
M H Biplob
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও বাংলা ওয়ে ব্লগ ওয়েবসাটের ওনার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৩ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।